Dhaka ১১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম
রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা ঈদগাঁও থানার এ এস আই অন্ত বড়ুয়া বেপরোয়া মিথ্যা জিডি নিয়ে তার বাণিজ্য মিতা সংবাদের প্রতিবাদ ভুয়া “প্রাচীন পিলার-কয়েন” ২য় পর্ব কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ-সোহেল সিন্ডিকেটের শত কোটি টাকা প্রতারণা প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী দোসর শফিউল্লাহ আল মুনিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, ১২ পাচারকারী আটক ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু হচ্ছে টিকাদান কর্মসূচি ফায়ার সার্ভিসে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ ৩ কোটি টাকায় পরিচালক পদ বাগানোর দাবি উপসচিব আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দেওয়ানবাগ দরবার শরীফে আধ্যাত্মিকতার আড়ালে হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরুরি নির্দেশনা

জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনই জানি, শহীদের খুনি হেসে উঠে যবে জিন্দেগানি’

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ হাদির এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত বিদায়ে তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন খেলাফত মজলিশের আমির ও হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে মামুনুল হক বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদিকে আমি জীবনে মাত্র তিনবার স্পর্শ করতে পারলাম। এরপরই ও চলে গেল অন্য এক জগতে। ধরাছোঁয়ার বহু ঊর্ধ্বে।’

‘প্রথমবার স্পর্শ করেছিলাম ২৪ শে মে ২০২৫। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত শাপলা স্মৃতি সংসদের কনফারেন্সে। যেখানে সে আমার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিল। বক্তব্য রেখেছিল। বলেছিল শাপলার সাথে তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের গল্প। সাধারণ একজন শিক্ষার্থী থেকে হেফাজতের আমির বলে অভিহিত হওয়ার ঘটনা। আমাকে নিয়েও নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিল। আরও অনেক কথা বলেছিল।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার যখন তাকে স্পর্শ করি, তখন সে নিস্তেজ অচেতন। গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সোয়া দুইটার দিকে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। অনেকক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেছিলাম এক নজর দেখার জন্য। অবশেষে যখন তাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয়, তখন তার স্ট্রেচার ধরে তাকে স্পর্শ করার সুযোগ হয়েছিল।’

‘সর্বশেষ আজ স্পর্শ করলাম কফিনবন্দি বীর শরীফ ওসমান হাদিকে। জানাজা শেষে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার অন্তিম শয্যার উদ্দেশ্যে।’

মামুনুল হক লেখেন, ‘খুব অল্প সময়ে তার সঙ্গে আমার এই উপাখ্যান। সময়ের এই সাহসী সন্তানের সঙ্গে জীবনের এই টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো রোমন্থন করলাম নিজেকে গৌরবান্বিত ভেবে। তার মৃত্যু জুলাই বিপ্লবকে যেভাবে পুনর্জাগরিত করল, তা দেখে খুনিরা আফসোস করতেই পারে। কষতে পারে লাভ লসের হিসাব। এমন মৃত্যুকে নিয়েই রচিত হয়েছে অমর কাব্য- জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনই জানি, শহীদের খুনি হেসে উঠে যবে জিন্দেগানি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আলোচিত

রূপগঞ্জে ‘আন্ডা রফিক’-এর সন্ত্রাস, জমি দখল ও অর্থপাচার দীর্ঘদিনের পলাতকতার শেষে নতুন উত্তেজনা

জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনই জানি, শহীদের খুনি হেসে উঠে যবে জিন্দেগানি’

আপডেট টাইম : ১০:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে শনিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ হাদির এমন ঐতিহাসিক ও বীরোচিত বিদায়ে তাকে নিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন খেলাফত মজলিশের আমির ও হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে মামুনুল হক বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদিকে আমি জীবনে মাত্র তিনবার স্পর্শ করতে পারলাম। এরপরই ও চলে গেল অন্য এক জগতে। ধরাছোঁয়ার বহু ঊর্ধ্বে।’

‘প্রথমবার স্পর্শ করেছিলাম ২৪ শে মে ২০২৫। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত শাপলা স্মৃতি সংসদের কনফারেন্সে। যেখানে সে আমার আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিল। বক্তব্য রেখেছিল। বলেছিল শাপলার সাথে তার অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের গল্প। সাধারণ একজন শিক্ষার্থী থেকে হেফাজতের আমির বলে অভিহিত হওয়ার ঘটনা। আমাকে নিয়েও নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেছিল। আরও অনেক কথা বলেছিল।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়বার যখন তাকে স্পর্শ করি, তখন সে নিস্তেজ অচেতন। গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার সোয়া দুইটার দিকে আততায়ীর হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তাকে দেখতে ছুটে গিয়েছিলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। অনেকক্ষণ সেখানে অপেক্ষা করেছিলাম এক নজর দেখার জন্য। অবশেষে যখন তাকে ঢাকা মেডিকেল থেকে এভারকেয়ারের উদ্দেশ্যে স্থানান্তর করা হয়, তখন তার স্ট্রেচার ধরে তাকে স্পর্শ করার সুযোগ হয়েছিল।’

‘সর্বশেষ আজ স্পর্শ করলাম কফিনবন্দি বীর শরীফ ওসমান হাদিকে। জানাজা শেষে যখন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তার অন্তিম শয্যার উদ্দেশ্যে।’

মামুনুল হক লেখেন, ‘খুব অল্প সময়ে তার সঙ্গে আমার এই উপাখ্যান। সময়ের এই সাহসী সন্তানের সঙ্গে জীবনের এই টুকরো টুকরো স্মৃতিগুলো রোমন্থন করলাম নিজেকে গৌরবান্বিত ভেবে। তার মৃত্যু জুলাই বিপ্লবকে যেভাবে পুনর্জাগরিত করল, তা দেখে খুনিরা আফসোস করতেই পারে। কষতে পারে লাভ লসের হিসাব। এমন মৃত্যুকে নিয়েই রচিত হয়েছে অমর কাব্য- জীবনের চেয়ে দৃপ্ত মৃত্যু তখনই জানি, শহীদের খুনি হেসে উঠে যবে জিন্দেগানি।’